বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ঘিরে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফেসবুকে দাবি করা হচ্ছিল, শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকেই ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে এই সংক্রান্ত খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তথ্যটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। এতে দেশের কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। বিষয়টির সত্যতা জানতে অনেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম অফিস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ঘটনাটি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়ে অর্থ বিভাগের সচিব বরাবর একটি ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই মুহূর্তে ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়।
সূত্র মতে, গত ৮ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে বাড়ানোর প্রস্তাবে অসম্মতি জানানো হয়েছে। উপসচিব মোসা. শরীফুন্নেসার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্দেশক্রমে এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়।
এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেন। তবে এ বিষয়ে নতুন করে কোনো প্রস্তাব বা চিঠি পাঠানো হয়নি বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৬০ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। বরং আগামী অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব পাঠানো হয়েছে, যা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিব ও এক উপসচিবও একই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পাঠানো প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে নাকচ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সব মিলিয়ে, উৎসব ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি সঠিক নয় এমনটাই নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।









