গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই নতুন করে হামলা, গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনা সামনে আসছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার জাবালিয়ার পূর্বে হালাওয়া ক্যাম্পে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। একই সময়ে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর, যাকে দ্রুত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের রাফা ও খান ইউনিস এলাকাতেও শিশুদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থলবাহিনীর পাশাপাশি আকাশপথে হেলিকপ্টার এবং সমুদ্রপথে নৌবাহিনীর জাহাজ থেকেও গুলি ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৪০০ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এসব ঘটনায় ৭৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
নারী ও শিশুর মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ইউএন উইমেন জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজা সংঘাতে ৩৮ হাজারেরও বেশি নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারিয়েছেন যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪৭ জনের মৃত্যু। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির ছয় মাস পরও নারী ও শিশুদের মৃত্যুহার কমেনি, বরং প্রায় ১০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু এখন বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও নিরাপদ নয় এমন উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তর গাজায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তাদের দুই বেসামরিক ট্রাকচালককে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউনিসেফ জানায়, নিয়মিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলাকালীন এই হামলা চালানো হয় এবং এতে আরও দুজন আহত হন। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা ‘সশস্ত্র ব্যক্তিকে’ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে এবং ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। গাজার অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু ও প্যালেস্টাইন ক্রনিকেল।









