ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর দ্রুতই মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামে। সর্বশেষ ৫০ দিনে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে বলে এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন (৫ হাজার কোটি) ডলারেরও বেশি।
সংঘাতের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যদিও পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে লেবাননে সংঘাত কমে এলে প্রায় ৪৭ দিন পর হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে চালু হয়, তবে নতুন করে মার্কিন অবরোধের জেরে আবারও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়, এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি বিপর্যয়। ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের চাহিদার সমান। এই পরিমাণ তেল দিয়ে ১০ সপ্তাহ বিশ্বজুড়ে সব পরিবহন ফ্লাইট কমানো সম্ভব, কিংবা অন্তত ১১ দিন সব ধরনের সড়ক পরিবহন বন্ধ রাখা যেতে পারে।
এছাড়া এই ঘাটতি দিয়ে ইউরোপের এক মাসের বেশি জ্বালানি চাহিদা পূরণ সম্ভব এবং এটি দিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রায় ৬ বছরের জ্বালানি প্রয়োজন মেটানো যেত। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শিপিং শিল্প প্রায় ৪ মাস পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব হতো।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত উপসাগরীয় ৬টি দেশের তেল রপ্তানি ২০৬ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি কমেছে। মার্চ মাসে দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা এক্সন মবিল ও শেভরনের সম্মিলিত উৎপাদনের সমান।
অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিমান জ্বালানি রপ্তানিও ব্যাপকভাবে কমে গেছে ফেব্রুয়ারির প্রায় ২ কোটি ব্যারেল থেকে নেমে এসেছে মার্চ-এপ্রিলে মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেলে।
এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুদ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ব্যারেল কমেছে। পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।









