দেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংকট শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সরকার অনেক দেরিতে এবং খুব সীমিত পরিসরে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সামর্থ্যের একটি সীমা রয়েছে, কারণ রাষ্ট্র পরিচালিত হয় জনগণের করের টাকায়। তাই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধনের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষায়, আমরা চেষ্টা করছি যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
স্বচ্ছতার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেছেন, সরকার পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করছে এবং এখানে কোনো ধরনের গোপনীয়তা নেই। তিনি বলেন, দেশ সবার—শুধু একটি দলের নয়। তাই জনগণের কাছে সব তথ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের চোখে সবাই সমান এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তার দলের রাজনীতি একটি স্থিতিশীল, সহনশীল ও সংবেদনশীল রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা সহ্য করা হবে না।
সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেছেন, এসব ঘটনাকে দলীয়ভাবে দেখার সুযোগ নেই। সমাজে সবসময় কিছু অশৃঙ্খল ব্যক্তি থাকে, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। আইনই তাদের মোকাবিলা করবে এবং এখানে কোনো ধরনের দলীয়করণের সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ নিয়ে সতর্কতা
বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চার স্থান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, এখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয়করণ বা অরাজনৈতিক কার্যক্রমের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের কারণে এই খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারছে না যা অত্যন্ত দুঃখজনক পরিস্থিতি।
মন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাতের এই সংকট থেকে উত্তরণে সময় লাগবে। সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতে তাদের সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পেরেছিল, এবারও তা সম্ভব হবে তবে এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে, তবে তা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের অংশ। তিনি কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়েছেন, পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের সংকট ও অর্থ পাচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে, তবে সমাধানে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।









