ছেলেদের ত্বক সুরক্ষায় সানস্ক্রিন এখন আর বিলাসিতা নয়-এটি একেবারেই প্রয়োজনীয় একটি স্কিনকেয়ার অভ্যাস। অনেকেই মনে করেন সানস্ক্রিন শুধু মেয়েদের জন্য, বা শুধু রোদে বের হলে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিদিনই আমাদের ত্বকের ক্ষতি করছে-রোদ, মেঘ বা ঘরের ভেতর-সব জায়গাতেই।
সূর্যের ইউভি-এ ও ইউভি-বি রশ্মি ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বক পুড়িয়ে দেয়, বয়সের ছাপ বাড়ায়, এমনকি ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। এই ক্ষতি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা। তাই ছেলেদের ক্ষেত্রেও ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া এবং নিয়মিত ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
সানস্ক্রিন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে-ফিজিক্যাল (যেমন জিংক অক্সাইড, টাইটেনিয়াম অক্সাইড) এবং কেমিক্যাল (ক্রিম, জেল, স্প্রে ইত্যাদি)। এগুলোর মধ্যে থাকা এসপিএফ বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে কতটা সুরক্ষা দেবে, তা নির্ধারণ করে।
তাই প্রশ্ন যতই থাকুক-কখন ব্যবহার করবেন, কতবার লাগাবেন, কোনটা বেছে নেবেন-সব কিছুর উত্তর জানা থাকলে ত্বক থাকবে সুস্থ ও সুরক্ষিত। এখন চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক ছেলেদের জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহারের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ছেলেদের ত্বকে সানস্ক্রিন ক্রিম না ব্যবহার করলে কি কি ক্ষতি হতে পারে?
ত্বকের কোলাজেন প্রোডাকশন কমে যাওয়া।
ত্বকে বলিরেখা বা রিংকেলস দেখা দেয়া।
বয়সের ছাপ।
চামড়া কুচকে যাওয়া।
অকাল বার্ধক্য।
সানট্যান বা চামড়া পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া।
পিগমেন্টেশন দেখা দেয়া।
ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয়া।
ত্বকের ক্যান্সার হওয়া।
ছেলেদের জন্য সানস্ক্রিন ক্রিম কেন জরুরি?
অনেকের ধারণা, সানস্ক্রিন বা স্কিনকেয়ার শুধু মেয়েদের জন্য। আবার অনেকে বন্ধুমহলে ‘রূপচর্চা’ নিয়ে মন্তব্য এড়াতে ত্বকের যত্ন নেন না। এই ভুল ধারণাগুলোই ধীরে ধীরে ত্বকের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে কাজের প্রয়োজনে ছেলেদের অনেক সময়ই দিনের বড় অংশ বাইরে কাটাতে হয়—যেখানে সরাসরি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকতে হয়।
দুঃখজনকভাবে, অধিকাংশ ছেলেই ত্বকের যত্নে উদাসীনতা দেখান। কিন্তু “সৌন্দর্য শুধু মেয়েদের বিষয়”—এই ধারণা থেকে বের হয়ে এসে ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতন হওয়া জরুরি। সুস্থ ত্বক মানে শুধু সুন্দর দেখানো নয়, বরং এটি শরীরের সুরক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
খেলোয়াড়দের দিকেও তাকালে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে খেলার কারণে তারা ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন হিসেবে জিংক অক্সাইডযুক্ত সাদা পাউডার ব্যবহার করেন। এটি সূর্যের রশ্মিকে প্রতিফলিত করে ত্বককে সরাসরি ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়।
ছেলেদের কোন ত্বকে কোন ধরনের সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা উচিত?
ছেলেদের ত্বকের বিভিন্ন ধরন রয়েছে যেমন- শুষ্ক, তৈলাক্ত, স্বাভাবিক, মিশ্র, এবং সংবেদনশীল ত্বক। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ময়শ্চারাইজারযুক্ত এবং সংবেদনশীল ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং বা স্প্রে জাতীয় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বকের জন্য জেল বা স্প্রে জাতীয়, এবং স্বাভাবিক ত্বকে যেকোনো সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। সানস্ক্রিন কেনার আগে প্যাচ টেস্ট করে অল্প কোনো জায়গায় সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে পরীক্ষা করতে হবে সেটা ম্যাচ করছে কিনা।
ছেলেদের জন্য সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহারের সঠিক নিয়ম কি?
প্রথমে মুখ ও শরীরের যেসব অংশ বাইরে দৃশ্যমান থাকে সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। ড্যাব ড্যাব করে আলতোভাবে মুছে নিন। এরপর সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে নিন। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ মুখে ও বাহ্যিক অংশগুলোতে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিতে হবে।
ময়শ্চারাইজারের আগে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। বাইরে বের হওয়ার কমপক্ষে ২৫-৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে নিন। এমনভাবে ম্যাসাজ করবেন যেনো পুরোপুরি মিশে যায়।
ঘাম বেশি হলে, বৃষ্টির সময় কিংবা সুইমিংপুলে নামার আগে অবশ্যই জল-প্রতিরোধী সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে নিতে হবে। প্রতি ২-৩ ঘন্টা পর পর পুণরায় এই ক্রিম প্রয়োগ করতে হবে।
সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার ও কেনার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলতে হবে-
ঘামের ওপর সরাসরি সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা যাবে না। আগে মুখ মুছে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
কেনার সময় অবশ্যই মেয়াদ দেখে কিনতে হবে।
প্যাচ টেস্ট করে ত্বকের সাথে মানানসই কিনা তা বুঝে কিনতে হবে।
২-৩ ঘন্টা পর পুণরায় ব্যবহার করতে হবে।
ময়শ্চারাইজারের পরে নয় বরং আগে ব্যবহার করতে হবে।
বাইরে যাওয়ার সময় ব্যবহার করলে সাথে সাথে এটি কাজ করবে না। তাই বের হওয়ার কিছুক্ষণ আগে লাগাতে হবে।
ত্বকের ধরন না বুঝে কেনা যাবেনা।
এলার্জিক কিনা তা প্যাচ টেস্ট করে দেখে নিতে হবে কেনার আগেই।
মেয়েদের সানস্ক্রিন ক্রিম না কিনে ইউনিসেক্স সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে
ছেলেরা ত্বক থেকে সানস্ক্রিন তুলবেন কিভাবে
বাইরে থেকে এসেই প্রথমে মুখে টোনার বা তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে।
কিছুক্ষণ রেখে একটি তুলা বা ওয়েট টিস্যুতে মাইসেলার ওয়াটার লাগিয়ে আস্তে আস্তে তুলে নিতে হবে সানস্ক্রিন ক্রিম।
তারপর মুখে বরফ বা শসার কুচি ঘসে নিন অথবা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
এবার একটি ভালোমানের ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিন।
তারপর ময়শ্চারাইজার লাগান।









