সংঘাত কমানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সামনে আনলেও তা এখনো বাস্তব অগ্রগতি পায়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে শর্ত ও দাবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা মতপার্থক্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান শান্তি আলোচনায় আগ্রহী হলেও তা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছে। বুধবার কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের এক নৈশভোজে তিনি বলেন, ইরানি আলোচকরা আশঙ্কা করছেন, নিজেদের পক্ষের লোকজনই তাদের ক্ষতি করতে পারে।
ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, ইরান শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তবে ইরান এই প্রস্তাব না মানায় ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘ইরানি আলোচকরা নিজেদের পক্ষের হাতে নিহত হওয়ার ভয় পাচ্ছেন। এ কারণেই তেহরানের যুদ্ববিরতির প্রস্তাব অস্বীকারের করেছে।’
ওই নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, ‘যাইহোক, তারা আলোচনা করছে এবং একটি চুক্তি করতে তারা খুবই আগ্রহী।
কিন্তু তারা এটা বলতে ভয় পাচ্ছে। তারা ভয় পাচ্ছে, তাদের নিজেদের লোকেরাই তাদের হত্যা করবে। তারা এও ভয় পাচ্ছে যে, আমাদের হাতেও তারা নিহত হবে।’
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বলেছেন, ‘আমাদের আলোচনার কোনো ইচ্ছা নেই।
’ এই মন্তব্যের পরেই ট্রাম্প এ কথা বলেছেন।
ট্রাম্প আরো বলেছেন, চতুর্থ সপ্তাহে গেছে এই সংঘাত, যা ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দিচ্ছে। যদিও তেহরান এখনো গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এদিকে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা এই সামরিক অভিযানে আমরা যে বিপুল সাফল্য অর্জন করছি, তা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে।’ হোয়াইট হাউস এর আগে জানিয়েছিল, ইরান পরাজয় স্বীকার না করলে ট্রাম্প ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে প্রস্তুত।
তবে একই সঙ্গে তারা এও জোর দিয়ে বলেছে, তেহরান এখনো আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এর আগে এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা ১৫-দফা পরিকল্পনার প্রতি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ‘নেতিবাচক’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান যুদ্ধ শেষ করার একটি মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করলেও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের অবসানে আলোচনা করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই বলে বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়।’ আরাগচি বলেন, ‘তারা তাদের বার্তায় কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন যা শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের পক্ষ থেকে একটি অবস্থান ঘোষণা করা হবে।’
তিনটি সূত্র অনুসারে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫-দফা প্রস্তাবে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস তাদের প্রস্তাবের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং হামলা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি তারা এটা বুঝতে ব্যর্থ হয় যে, তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যে, তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরো কঠিন আঘাত পাবে।’
একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান এই শর্তাবলিতে রাজি হবে কি না সে বিষয়ে ইসরায়েল সন্দিহান এবং মার্কিন আলোচকরা ছাড় দিতে পারে বলে ইসরায়েল উদ্বিগ্ন। দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল এটাও চায় যে, যেকোনো চুক্তিতে যেন আগাম হামলা চালানোর বিকল্পটি সংরক্ষিত থাকে।
সূত্র : আলজাজিরা।









