হরমুজ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' নামে একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-কে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি লেখেন, হরমুজ প্রণালির ঘটনাগুলো স্পষ্ট করেছে, একটি রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি আরও লেখেন, পাকিস্তানের সৌজন্যমূলক প্রচেষ্টায় আলোচনা যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত কিছু কু-চক্রী মহলের দ্বারা আবারও কাদাজলের ফাঁদে (জটিল পরিস্থিতি) জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও সতর্ক থাকা উচিত। এক্সে দেওয়া এই পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম হলো প্রজেক্ট ডেডলক (অচলাবস্থা)।’
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে ইরান। এর জবাবে ১৩ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানি বন্দর ব্যবহারের ওপর পাল্টা অবরোধ দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের করে আনতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। উপসাগরে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার করতে সোমবার সকাল থেকে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামের একটি অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। এতে যুক্ত থাকবে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, বহুমাত্রিক ড্রোন প্ল্যাটফর্ম এবং ১৫ হাজার সেনা সদস্য।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সরাসরি হস্তক্ষেপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে—হরমুজে যেকোনো মার্কিন উদ্যোগের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ ইরানের সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে। ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-কে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ উন্মুক্ত করা। তিনি বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ও পরবর্তী পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র নানা পথে চেষ্টা চালিয়েও সফল হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি









