তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তবে তিনি ইরানের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশটি এখনো পর্যাপ্ত ‘মূল্য’ দেয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।
শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি পরে জানাবেন।পরে তিনি মন্তব্য করেন, তারা এখন আমাকে সঠিক ভাষাটা দেবে।
এর কিছুক্ষণ পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি মনে করেন না এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে।তার দাবি, গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্ববিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ইরান এখনো যথাযথ মূল্য দেয়নি।
এর আগেও চলতি সপ্তাহে ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার পর ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়।ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেন, এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে-তারা কূটনীতি বেছে নেবে নাকি সংঘাত অব্যাহত রাখবে।ইরান দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।
রয়টার্সসহ বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তেহরান পারমাণবিক ইস্যু আলাদা রেখে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার প্রস্তাবও দিয়েছে।
নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবে ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত, ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের অবসানের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।পাশাপাশি প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে-এটা একটি সম্ভাবনা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ প্রদান করলে জাহাজ কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, নগদ, ডিজিটাল সম্পদ, বিকল্প লেনদেন বা অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমসহ যেকোনো উপায়ে ইরানকে অর্থ প্রদান করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।









