ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
একই সময়ে তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নতুন করে সংঘাত শুরুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই হতাশাজনক পূর্বাভাসটি এসেছে ইরানের তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনের পর, যেখানে বলা হয়েছে যে তেহরান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
এতে সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে বলে তাসনিম জানায়। ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যে পরিকল্পনাটি আমাদের পাঠিয়েছে, সেটি শিগগিরই পর্যালোচনা করব। তবে এটি গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না। কারণ, গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে তারা যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে যুদ্ধ শুরু করে, তা ৮ এপ্রিল থেকে স্থগিত রয়েছে। পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা ব্যর্থ হয়।
শনিবার ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফার্স বার্তা সংস্থা তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রমাণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিশ্রুতি বা চুক্তিতে অঙ্গীকারবদ্ধ নয়।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের জানান, কূটনীতির পথ নেবে, নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবে; এ সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের। ইরান দুই পথের জন্যই প্রস্তুত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আবার আলোচনার টেবিলে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে ইরানের মিশন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের কথা তুলে ধরে, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামিপূর্ণ আচরণের’ অভিযোগ তোলে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল, গ্যাস ও সারের বড় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
ইরানের পার্লামেন্টের ভাইসস্পিকার আলী নিকজাদ বলেছেন, জলপথ ব্যবস্থাপনার জন্য বিবেচনাধীন খসড়া আইনে আদায়কৃত টোলের ৩০ শতাংশ সামরিক অবকাঠামোতে ব্যয় হবে। বাকিটা ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে’ ব্যবহৃত হবে।









