বাংলাদেশে অতীতে বড় প্রকল্পগুলোর আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে জোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
রবিবার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এমন আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার এবং গণভোট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে যেন আর কোনো ধরনের বড় আকারের দুর্নীতি না ঘটে, সে বিষয়ে বর্তমান সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তার মতে, ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ঠিকাদার বা কোম্পানিগুলোর কাছে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। একইসঙ্গে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি ও অর্থ পাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রকে লুটপাটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হলেও এর একটি বড় অংশ অনিয়মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উঠে এসেছে।
এছাড়া, বিদ্যুৎ খাতে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে আদানি গ্রুপের সঙ্গে হওয়া চুক্তির প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা তুলে ধরেন, এটি দেশের প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বেশি ছিল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এমন চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সারজিস আলম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় ঋণ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দিয়ে দেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল।
ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী একাধিক ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এর ফলে দেশের আর্থিক খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তার মতে, সমাজে বিভাজন তৈরি হলে দুর্নীতিবাজরা সুযোগ নেয়। তাই জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতীতের অনিয়মগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবিও তোলেন।
সরকারের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজস্ব ঘাটতি কমাতে এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের এই সময়ে সঠিক নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিবাদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো অপশক্তি দেশের উন্নয়নকে বিপথে নিতে পারবে না।









