মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই বাড়ছে যুদ্ধপরিস্থিতি। চলমান সংকটের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে কৌশলগত ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ ঘোষণা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর এই কৌশলগত জলপথে নতুন ব্যবস্থাপনা ও আইনি নিয়ম চালু করবে ইরান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রতি বছর ৩০ এপ্রিল ইরান তাদের দক্ষিণ উপকূলে ১৬২২ সালে উপনিবেশবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করে।
পারস্য উপসাগরকে মুসলিম বিশ্বের জন্য ‘অপরিবর্তনীয় নিয়ামত’ হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেছেন, এই জলরাশি ও হরমুজ প্রণালি শুধু জাতিগুলোর মধ্যে সংযোগই তৈরি করে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য পথ হিসেবেও কাজ করে।
তার অভিযোগ, অতীতে এই কৌশলগত সম্পদকে কেন্দ্র করে বহু দেশের লোভ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ও আমেরিকান শক্তিগুলোর বারবার আগ্রাসন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও ক্ষতির ঘটনাগুলোকে তিনি ‘বিশ্বের দম্ভশালী শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তিনি জানান, এটি সেই আগ্রাসনের সর্বশেষ উদাহরণ।
তিনি আরও তুলে ধরেন, পারস্য উপসাগরের দীর্ঘতম স্থল উপকূল থাকা দেশ হিসেবে ইরান এই অঞ্চলের স্বাধীনতা রক্ষায় সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি পর্তুগিজদের বিতাড়ন থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালির মুক্তি, ডাচ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইতিহাসও তুলে ধরেন।
খামেনি জোর দেন, হরমুজ প্রণালির জলপথে শত্রুভাবাপন্ন শক্তির অপব্যবহার বন্ধ করা হবে। এই জলপথটি নতুন নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হবে। আইনি নিয়মকানুন এবং নতুন ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ এই অঞ্চলের সকল জাতির জন্য স্বস্তি ও অগ্রগতি বয়ে আনবে এবং এর অর্থনৈতিক আশীর্বাদ জাতির হৃদয়কে আনন্দিত করবে, আর তা হবে আল্লাহর ইচ্ছায়।









