মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকতে পারে এমন আশঙ্কা আরও জোরালো হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বড় অঙ্কে বেড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬ দশমিক ৮ ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি গত এক সপ্তাহের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও তীব্র করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে, যা বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সর্বশেষ প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। এই খবর প্রকাশের পরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। এরপর পাল্টা হামলা-পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
পরে ২১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং তা ইরানের নতুন আলোচনার প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত বহাল থাকবে। তিনি দাবি করেন, এই উদ্যোগ পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই পাকিস্তানের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন









