ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ খাত চাপে পড়েছে। ফলে ১ মে থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের শ্রমিক দিবসের ছুটিতে অনেক চীনা নাগরিক বিদেশে না গিয়ে দেশের ভেতরেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চীন থেকে ব্যাংকক, ফুকেট ও কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন রুটে এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন, স্প্রিং এয়ারলাইন্স ও এয়ারএশিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট কমিয়েছে কিংবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এতে বহু যাত্রী তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।
চীনা এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মে দিবস ছুটিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। মোট ৭৮৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জেট ফুয়েলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চীন-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রুটে বিশেষ করে কম খরচের এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট বাতিল বেড়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ফ্লাইটগুলোর টিকিট মূল্যও গত বছরের তুলনায় গড়ে ১৮ শতাংশ বেশি।
ফ্লাইট অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যাত্রী এখন ট্রেন ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছেন। চায়না রেলওয়ে গ্রুপ জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ট্রেনযাত্রা হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেনে ভ্রমণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকিও কম। তাই অভ্যন্তরীণ পর্যটনে চাপ বাড়ছে।
ড্রাগন ট্রেইলের জরিপে অংশ নেওয়া ৪৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ভ্রমণের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
চীনের পর্যটন খাতকে এখন ভোক্তা আস্থার অন্যতম সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির প্রথম প্রান্তিকে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ।
ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে স্থানীয় সরকারগুলো পর্যটন উৎসব, ফুল উৎসব, শিক্ষা সফরসহ নানা কর্মসূচি নিয়েছে। পাশাপাশি ২৮৪ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি ভাউচার ও ভর্তুকিও বিতরণ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে চীনের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ শিল্প আরও বড় চাপে পড়তে পারে। তবে আপাতত অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত কিছুটা স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে।









