দেশজুড়ে টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির প্রভাবে ইতোমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে। পরিস্থিতি এখানেই থেমে নেই বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দ্রুতই আরও তিন জেলায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলার মধ্যে দুই জেলায় ইতোমধ্যেই বন্যা শুরু হয়েছে। বাকি তিনটি জেলা সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এখন রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিতে, কারণ এসব এলাকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী অন্তত পাঁচ দিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এর আগে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই পূর্বাভাসের বাস্তব প্রতিফলন এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নিকলী এলাকায় ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলা-য় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনী-তে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে চারটি নদীর পানি ইতোমধ্যেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এসব নদী হলো ভুগাই, কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে তিনটি নদীই নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও ১ থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নদী আকারে ছোট হওয়ায় ভারি বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বাড়ে এবং বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।









