দেশজুড়ে চলমান বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বজ্রপাতের ভয়াবহতা আবারও সামনে এলো। একদিনেই দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক পৃথক ঘটনায় এসব মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
জামালপুরে দিনের শুরুতেই ঘটে দু’টি হৃদয়বিদারক ঘটনা। ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নে সকালে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান মো. শামীম মিয়া (৩৭)। একই উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ চলাকালে বজ্রপাতে প্রাণ হারান সাগর ইসলাম (১৮)। দুজনই ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পটুয়াখালীতেও বজ্রপাত কেড়ে নেয় দুটি প্রাণ। কলাপাড়া উপজেলার নয়াকাটা গ্রামে ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান জহির চৌকিদার (২৮)। একই সময়ে পূর্ব চাকামইয়া গ্রামে গরু নিয়ে মাঠে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন সেতারা বেগম (৫৫)। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে বজ্রপাতে নিহত হন সুমন মণ্ডল (৩৫)। সকালে মেয়েকে কোলে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে আকস্মিক বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। এ সময় শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে পড়ে, তবে সে অক্ষত থাকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষদর্শীদের নাড়িয়ে দিয়েছে।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দুপুরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান সাহেরা বেগম (৪০)। একইভাবে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতী এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান সাদ্দাম হোসেন (৩২)। স্থানীয় থানা সূত্র জানিয়েছে, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নে কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিহত হন রাজিব শেখ (৩২)। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তার শরীর ঝলসে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বরগুনার আমতলীতেও বজ্রপাত কেড়ে নেয় নুর জামাল (৫৪) নামে এক ব্যক্তির জীবন। দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের হাতে ২৫ হাজার টাকা অনুদান তুলে দেন।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে খোলা মাঠে কাজ করা, মাছ ধরা কিংবা বাইরে চলাচলের সময় যা বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতার গুরুত্ব আবারও তুলে ধরছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা জরুরি।









