পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে ভোটারদের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটদানের হার ৯১ শতাংশ অতিক্রম করায় নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। তবে ভোট শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টার পরও বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলমান থাকায় চূড়ান্ত হার আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটগ্রহণেও রাজ্যে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দফায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৯২.৪৭ শতাংশ, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩.১৯ শতাংশে। ফলে দ্বিতীয় দফাতেও উচ্চ ভোটদানের এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। অন্যদিকে কলকাতা দক্ষিণে তুলনামূলকভাবে কম ভোটদানের হার লক্ষ্য করা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, শহর ও জেলার ভোটদানের আচরণে কিছু পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
আসনভিত্তিক পরিসংখ্যানেও রয়েছে বৈচিত্র্য। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে হাড়োয়া আসনে, যেখানে ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯৬.৪৬ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে রাজারহাট গোপালপুরে, যেখানে ভোটের হার ছিল ৮৪.৩৬ শতাংশ।
এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য ভোটদানের হার দেখা গেছে ভবানীপুর ও ভাঙড় আসনেও। ভবানীপুরে ভোট পড়েছে ৮৬.৪৩ শতাংশ, আর ভাঙড়ে ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৩৬ শতাংশে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যেসব কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের পরও ভোটগ্রহণ চলেছে, সেগুলোর হিসাব যুক্ত হলে চূড়ান্ত ভোটদানের হার আরও কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।









