দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়তে থাকায় জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার জারি করা এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা গেলে বা বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জোর দিয়ে বলেছে ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’ এই বার্তাটি এখন সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বজ্রধ্বনি শোনা মানেই আপনি বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বজ্রপাতের সময় পরিবারের সবাইকে, বিশেষ করে শিশুদের, ঘরের ভেতরে অবস্থান করানো জরুরি। এই সময়ে খোলা মাঠে খেলাধুলা, ঘুড়ি ওড়ানো কিংবা দলবদ্ধ হয়ে বাইরে অবস্থান করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
বাড়ির ভেতরে থাকলেও সতর্ক থাকতে হবে। দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, জানালার গ্রিল বা কোনো ধাতব অংশ স্পর্শ না করা এবং উঠানে গিয়ে শিলা কুড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ধাতব বস্তু বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, কেউ যদি ঘরের বাইরে অবস্থান করেন, তাহলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গাছের নিচে, ধাতব ছাউনির নিচে বা খোলা স্থানে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নদী, হাওর বা জলাশয়ে অবস্থান করা কিংবা মাছ ধরা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক লাইন, সংযুক্ত যন্ত্রপাতি বা যেকোনো ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পরও অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা জরুরি। কারণ অনেক সময় বজ্রপাত দেরিতেও ঘটতে পারে, যা অপ্রস্তুত অবস্থায় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বজ্রপাতের সময় সামান্য অসতর্কতাও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই সতর্কতা মেনে চলাই একমাত্র নিরাপদ পথ।









