মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ৩৮ দিনের সংঘাতের পর যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইরান, তা থেকে সরে এসে নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে তেহরান।ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রও বের করে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার(১ এপ্রিল) সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।হোয়াইট হাউজ সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করা এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্টকে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প ও ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন অবরোধ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেও ইরানের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন।তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধের প্রয়োজন হতে পারে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত খুব অল্প কয়েকজনই জানেন।
একই সঙ্গে জার্মানির পর ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, যা নতুন সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাদ্য ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় রসদ পাঠানো হচ্ছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক-এ বিপুল সরঞ্জাম তোলা দেখা গেছে।রণতরীটি বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা করছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধে নিয়োজিত মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বাতিল হয়েছে।বৃহস্পতিবার ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৪৭-৫০ ভোটে পরাজিত হয়।
আজ শুক্রবার (১ মে) ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আইনি সময়সীমাও শেষ হতে যাচ্ছে।ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে।তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত হামলার পথে হাঁটবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের ওপর।মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সফরটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ।









