হাসি মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতির প্রকাশ হলেও নারী ও পুরুষের হাসির ধরন এবং অন্যকে হাসানোর কৌশলে রয়েছে বেশ কিছু মজার পার্থক্য।বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, সবাই হাসতে পছন্দ করলেও কে বেশি হাসেন আর কে বেশি হাসান-এই প্রশ্নে লিঙ্গভেদে দেখা যায় ভিন্ন প্রবণতা।সামাজিক আচরণ, মানসিক গঠন ও যোগাযোগের ধরন মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এ আকর্ষণীয় বৈচিত্র্য।
গবেষকদের মতে, দুই বা ততোধিক নারী একসঙ্গে থাকলে হাসির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।এমনকি নারী-পুরুষের মিশ্র আড্ডাতেও নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি হাসেন।অন্যদিকে পুরুষরা তুলনামূলকভাবে কম হাসলেও অন্যকে হাসানোর চেষ্টা বেশি করেন।অর্থাৎ, একদিকে পুরুষরা হাসির পরিবেশ তৈরি করেন, অন্যদিকে সেই হাসিতে বেশি সাড়া দেন নারীরা।তাই সামাজিক আড্ডায় নারীদের হাসির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি চোখে পড়ে।
যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী দিনে গড়ে প্রায় ৬২ বার হাসেন, যেখানে পুরুষরা দিনে মাত্র ৮ বার হাসেন।নারীরা পুরুষদের তুলনায় যেকোনো জায়গায় সহজে মিশতে পারেন না, তাই সামাজিক কারণে বা মুখে 'না' বলতে না পেরে তারা হাসির আশ্রয় বেশি নিয়ে থাকেন।
শৈশব থেকেই পুরুষদের মাঝে হাসানোর প্রবণতার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়।সাধারণত কৌতুকপ্রিয় বা দুষ্টুমি করা শিশুদের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা বেশি দেখা যায়।বড় হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে মঞ্চে বা আড্ডায় রসিকতা করে অন্যকে হাসানোর ভূমিকায় পুরুষদের অংশগ্রহণ বেশি থাকে।
অন্যদিকে নারীরা রসবোধ গ্রহণে বেশি সংবেদনশীল বলে গবেষণায় ধারণা পাওয়া যায়।মজার কোনো ঘটনা বা কৌতুক শুনলে নারীদের মস্তিষ্কের আনন্দকেন্দ্র তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।ফলে তারা সহজে ও বেশি পরিমাণে হাসেন।
হাসি শুধু আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি সম্পর্ককে গভীর ও মজবুত করারও এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।অনেক দম্পতির মতে, একসঙ্গে হাসতে পারা সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি।গবেষণাতেও দেখা গেছে, সুস্থ ও সুখী সম্পর্কের পেছনে রসবোধ ও পারস্পরিক হাসি-আনন্দের বড় ভূমিকা রয়েছে।
তাই হাসির এই পার্থক্যকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি একে অপরের পরিপূরক বৈশিষ্ট্য।পুরুষরা যেখানে হাসির উপলক্ষ তৈরি করেন, নারীরা সেখানে কেউ সেই মুহূর্তকে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলেন।









