যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনায় তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছেন ব্রেন্ডান লিঞ্চ। তিনি ‘অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের’ (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী প্রতিনিধি।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই কোনো মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির প্রথম ঢাকা সফর। এই সফরের মূল লক্ষ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন, বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তির নীতিগত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংলাপ জোরদারের লক্ষ্যেই ব্রেন্ডান লিঞ্চ ঢাকায় আসছেন। সফরে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন, বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তির নীতিগত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্রেন্ডান লিঞ্চের ঢাকা সফরে মূল বৈঠকটি হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
লিঞ্চের সফর সম্পর্কে সোমবার ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করতে ৫-৭ মে ঢাকা সফর করবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ব্রেন্ডান লিঞ্চের এই সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংলাপ জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ৫-৭ মে প্রতিনিধিদলটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করবে। এই চুক্তি উভয় দেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করবে, বিনিয়োগের বাধা দূর করবে এবং বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করবে।
বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন দূতাবাস উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে অংশীদারত্বের প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তি উভয় দেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করবে, বিনিয়োগের বাধা দূর করবে এবং বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করবে।
উল্লেখ্য, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। এই চুক্তি সইয়ের ফলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।
এছাড়া এই সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন) আমদানির প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তির নীতিগত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। চুক্তির আওতায় জ্বালানি খাতে ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মার্কিন বোয়িং কোম্পানির ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে, যা এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘদিনের কিছু অশুল্ক বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ মার্কিন নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান অনুযায়ী তৈরি গাড়ি গ্রহণ করবে, মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) অনুমোদিত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম গ্রহণ করবে এবং পুনর্নির্মিত (রিম্যানুফ্যাকচারড) পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও লাইসেন্সিং বাধা তুলে নেবে।









