শিগগিরই পুরোদমে চালু হবে বাংলাদেশ-ভারত ভিসা কার্যক্রম। বাংলাদেশ এরইমধ্যে ভারতীয়দের জন্য সব ধরনের ভিসা চালু করেছে। এবার ভারতও বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটকসহ সব ভিসা চালু করতে চায়। এর মাধ্যমে দু-দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে— চিকিৎসাসহ যে কটি ক্যাটাগরিতে ভিসা চালু আছে, সেখানে আগের চেয়ে বেশি দেয়া হচ্ছে— ২০ ভাগ ভিসা। অন্যদিকে ভারতীয়দের জন্য সব ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশী ভিসা চালু হয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি। গেল দু-মাসে ইস্যু হয়েছে ১৩ হাজারের বেশি ভিসা। সবকিছু ঠিক থাকলে, শিগ্গিরই চালু হবে ভারতের সব ধরনের ভিসা।
গতকাল সোমবার (৪ মে) ঢাকার ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) কার্যালয়ে দেখা যায় ভিসা প্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি। দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা নিয়ে কোনো জটিলতা আছে। মাসখানেক ধরে বাড়ছে এই উপস্থিতি। শুধু ঢাকার ভিসা সেন্টার নয়, দেশের বিভিন্ন শহরে ভিসা সেন্টারে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কারণ দুই বছর পর শতভাগ সচল হতে যাচ্ছে এসব সেন্টার।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আপনারা সম্প্রতি দেখেছেন যে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়েছিলেন, সেখানেও ওনারা ভিসার ব্যাপারে ইতিবাচকভাবে বলেছেন। তো আমরা আশা করব যে, ট্যুরিস্ট ভিসাসহ সকল ভিসাই স্বাভাবিক হবে এবং দুদেশের মধ্যে যাতায়াত আবার স্বাভাবিক হবে।’
বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকের পাশাপাশি বাণিজ্যে অগ্রগতির আশা দেখছেন তাঁরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ওবায়দুল হক বলেন, ‘আমি মনে করি যে, এই ভিসা প্রক্রিয়া চালু হলে একটা বিরাট প্রভাব পড়বে সম্পর্কের (ভারত-বাংলাদেশ) ওপর। পজিটিভ একটা ইমপ্যাক্ট হবে। আমি মনে করি এটা খুব পজিটিভ একটা মুভ ভারতের দিক থেকে ভিসা খুলে দেয়া’
বাংলাদেশের বড় প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের সিংহাসনে এখন বিজেপি। ভিসা ইস্যুতে এটা কোনো প্রভাব ফেলবে কি না? জানতে চাইলে ওবায়দুল হক বলেন, ‘যেহেতু কেন্দ্রে বিজেপি আছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি সরকার। কাজেই তাদের মধ্যে সমন্বয়টা ভালো হবে।’









