পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির একাধিক মন্ত্রী ও তারকা প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। সবচেয়ে আলোচিত ফলাফল এসেছে তৃণমূল প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আসন থেকে। তিনি ভবানীপুরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-এর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গেছেন। একইসঙ্গে নন্দীগ্রাম আসনেও জয় পেয়েছেন শুভেন্দু।
তৃণমূলের আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বড় ব্যবধানে হেরেছেন। বিধাননগরে সুজিত বসু ৩৭ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। দমদম উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ২৬ হাজারের বেশি ভোটে হারেন। বরাহনগরে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্যারাকপুরে রাজ চক্রবর্তী এবং রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমার—সবাই উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে হেরেছেন বিজেপি প্রার্থীদের কাছে।
টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাস, শ্যামপুকুরে শশী পাঁজা, বেহালা পশ্চিমে রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় অতীন ঘোষও পরাজিত হয়েছেন। মানিকতলায় শ্রেয়া পাণ্ডে, দমদমে ব্রাত্য বসু এবং কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে পরেশচন্দ্র অধিকারীও হারের তালিকায় রয়েছেন। দিনহাটায় উদয়ন গুহ, রাজগঞ্জে স্বপ্না বর্মণ, শিলিগুড়িতে গৌতম দেব এবং বালুরঘাটে অর্পিতা ঘোষও পরাজয়ের মুখ দেখেছেন।
এবারের নির্বাচনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়—২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত যে ফলাফলের ধারা দেখা গেছে, তাতে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।
রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফলে বিজেপি ২০০-র বেশি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ৮০-এর আশপাশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে ৩৪ বছর শাসন করা বামফ্রন্টকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসে দলটি। তবে এবার সেই অধ্যায়ের ইতি ঘটিয়ে রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি।









