মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দেন। এর পর ইরানের দূতাবাসগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ১৯৮০ সালের ২৪ এপ্রিলের ব্যর্থ মার্কিন অভিযান ‘অপারেশন ইগল ক্ল’-এর কথা স্মরণ করায় এবং সতর্ক করে যে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
ট্রাম্প একটি মার্কিন ফাইটার পাইলট উদ্ধারের ‘অলৌকিক’ অভিযানের ঘোষণা দিলে উত্তেজনা বাড়ে। তিনি এটিকে সাহসী ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশন বললেও ইরান দাবি করেছে, অভিযানটি তারা ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং ইসফাহানের কাছে ধ্বংসপ্রাপ্ত মার্কিন বিমানের ছবি প্রকাশ করেছে। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, এটি ছিল প্রতারণামূলক অনুপ্রবেশের চেষ্টা, যা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে পাইলটকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা অস্বীকার করেনি তেহরান।
ট্রাম্পের উপদেষ্টা ক্যারোলিন লেভিটের পোস্টেরও কড়া জবাব দেয় ইরান, যেখানে মার্কিন কর্মকাণ্ডের সমালোচনার তালিকা তুলে ধরা হয়। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে এবং ইসরায়েলসহ প্রতিবেশী এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, পথ না খুললে ইরান ‘নরকের’ পরিস্থিতির মুখে পড়বে। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, অভিযানে ব্যবহৃত দুটি পরিবহন বিমান বিকল হয়ে পড়ায় সেগুলো ধ্বংস করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে তেজস্ক্রিয়তা কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ জিসিসি দেশগুলোকে আগে বিপর্যস্ত করবে। একই সময়ে লেবানন ও গাজায় সহিংসতা বেড়েছে। তবে এএফপি জানায়, তেহরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনযাপনই লক্ষ্য করা গেছে, ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেও।









