যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যেতেই আবারও উত্তেজনা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই ইরানকে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলেই ইরানি জাহাজগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ইরানের সব বন্দর অবরুদ্ধ ঘোষণা করে মার্কিন বাহিনী।
এরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন এবং সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে... মোট ১৫৮টি জাহাজ। তবে তাদের অল্প সংখ্যক, যেগুলোকে তারা “দ্রুত আক্রমণকারী জাহাজ” বলে, সেগুলোতে আমরা আঘাত হানিনি, কারণ আমরা সেগুলোকে তেমন বড় হুমকি বলে মনে করিনি।
তিনি আরও লেখেন, সতর্কবার্তা: এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের কাছাকাছি আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। সমুদ্রে নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে (ভেনিজুয়েলায়) আমরা যে হত্যা পদ্ধতি ব্যবহার করি, ঠিক সেই পদ্ধতিই ব্যবহার করা হবে। এটি দ্রুত এবং নৃশংস।’
এরআগে সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল মার্কিন সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে আরব উপসাগর (পারস্য উপসাগর) ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি সমস্ত বন্দরসহ ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলো অবরোধ প্রয়োগ করা হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে। তবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে তারা বাধা সৃষ্টি করবে না।
এদিকে ট্রাম্পের হুমকি প্রতিক্রিয়ায় কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেছে, ইরানের বন্দর যদি কোনো হুমকিতে পড়ে তাহলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।









