সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। হবিগঞ্জে পৃথক তিনটি অভিযানে প্রায় এক কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ ওষুধ, জিরা ও নিম্নমানের কসমেটিকস জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান।
তিনি জানান, জব্দ করা মালামাল এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এসব অবৈধ পণ্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় মাধবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে অভিযান চালায় ৫৫ বিজিবির একটি টহল দল।
এ সময় একটি মিনি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় গাড়িতে থাকা কীটনাশক ও সারের বস্তার ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ ব্যথানাশক ও চেতনানাশক ওষুধ এবং রং ফর্সাকারী নিম্নমানের কসমেটিকস পাওয়া যায়।
পাচারের উদ্দেশ্যে আনা এসব পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।
একই দিন দিবাগত রাত ১০টার দিকে একই এলাকায় আরেকটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালায় বিজিবি সদস্যরা।
তল্লাশির সময় ট্রাকটির বালুর স্তরের নিচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব জিরা জব্দ করে বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার টিপরাছড়া এলাকায় একটি সন্দেহভাজন মাহিন্দ্র ট্রাক থামানোর জন্য সংকেত দেয় বিজিবি টহল দল।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকচালক গাড়িটি রাস্তার পাশে খাদে ফেলে দ্রুত জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যান। পরে ট্রাকটি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিম্নমানের কসমেটিকস উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা সব মালামাল বিজিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।









