নতুন পে-স্কেল নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকারি চাকরিজীবীরা, ফুসছে ২২ লাখ কর্মচারী
প্রকাশ:

বিস্তারিত
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত বেতন কাঠামোর কারণে চরম চাপের মুখে পড়েছেন দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ। এমন বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিতে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন প্রায় ২২ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।
রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি, কিন্তু বঞ্চনার শিকার
আন্দোলনকারীরা বলছেন, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এই ২২ লক্ষ সরকারি কর্মচারী। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের কর্মচারী সবাই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ ২০১৫ সালের পর আর কোনো নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। তাদের প্রশ্ন, গত এক দশকে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে, তখন কেন তাদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেল?
বাজেটে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি
সরকারি কর্মচারীদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত তারা অন্তত দুটি পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বা বৈশ্বিক মন্দার অজুহাতে এই বিষয়টি উপেক্ষা করা হলে তা অন্যায্য হবে বলে মনে করছেন তারা। তাই আসন্ন বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য সুস্পষ্ট ঘোষণা ও বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের চরম সংকট
২০১৫ সালে সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ২০০ টাকা। এক দশক পার হলেও সেই বেতনে কোনো পরিবর্তন না আসায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা এখন নাভিশ্বাস তুলছেন। বাসা ভাড়া, সন্তানের শিক্ষা ব্যয়, চিকিৎসা সব মিলিয়ে বর্তমান আয়ে জীবনধারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, একটি বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
অসন্তোষ বাড়ার শঙ্কা
সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি আসন্ন বাজেটে নতুন পে-স্কেল নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও তীব্র হতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।








