সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান জনগণ নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অত্যন্ত কর্মতৎপর। “সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে দ্রুতই,” তিনি বলেন। তবে জনস্বাস্থ্য খাতে আরও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি, কারণ গত ১৫ বছরে এ খাতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি এবং অন্তর্বর্তী সময়েও কিছুটা অবহেলা ছিল।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির র্যালিতে তিনি এসব কথা বলেন। র্যালিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে শেষ হয়।
রিজভী বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, সরকার, পার্লামেন্ট ও সংবিধান মানুষের প্রত্যাশা তৈরি করেছে যে যেকোনো মহামারি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা হবে। তবে করোনাকালে অক্সিজেনের অভাবসহ নানা সঙ্কটে বহু প্রাণহানি ঘটে এবং ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসে।
তিনি জানান, গত ১২ মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে হাম রোগে ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে এই পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে মোকাবেলার আহ্বান জানান। বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু জাতিকে ব্যথিত করেছে।”
রিজভী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি একটি নির্বাচিত ও কর্মতৎপর সরকার—জনগণ যেন তা দৃশ্যমানভাবে উপলব্ধি করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কুসংস্কার ও টিকাবিরোধী অপপ্রচারের পাশাপাশি অবহেলার কারণে হাম নির্মূল সম্ভব হয়নি। এছাড়া গবেষণা খাতে অপর্যাপ্ত বরাদ্দের সমালোচনা করে বলেন, উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গবেষণায় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে উপস্থিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, হাম পরিস্থিতির কারণে অনেক কর্মসূচি বাতিল করা হলেও এটি যথাযথ সিদ্ধান্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চিকিৎসক সমাজ দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।









