বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা আইনি মামলাটি সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের আগেই সাকিবের সমস্ত আইনি বাধা দূর করার পরিকল্পনা নিয়েছে বোর্ড। বিসিবি পরিচালক ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর সম্প্রতি বেসরকারি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সাকিবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর ফাইল ইতিমধ্যে প্রস্তুত এবং তাঁর আইনজীবী বিসিবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, “আশা করছি রবিবার বা সোমবারের মধ্যে আমরা ফাইলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। এরপর বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।” সরকার থেকেও ইতিমধ্যে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সাকিব ও মাশরাফীর মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরাতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সাবেক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও, আসিফ আকবর জানান যে সাকিব ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সম্মানের সঙ্গে ক্যারিয়ার শেষ করতে চান। আসিফ আরও বলেন, “সাকিবের সঙ্গে আমার যুক্তরাষ্ট্রে কথা হয়েছে, তিনি খেলতে আগ্রহী। বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দলে চায়।” বিসিবি সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদও সাকিবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি ব্র্যান্ড। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অসাধারণ। ফিটনেস ঠিক থাকলে জাতীয় দলের জয়ে তিনি বড় ভূমিকা রাখবেন।”
চলতি মাসে ফিরতে না পারলেও, আগামী ১১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সাকিবের খেলার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাকিবের এই প্রত্যাবর্তন শুধু ক্রিকেট মাঠ নয়, বরং শেয়ারবাজার-এর মতো সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক অঙ্গনেও সাকিবের ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।









