এমনই একটা সমাপ্তি যেন লেখা ছিল আগেই! যে রোনান সুলিভান মোহময় এক ফ্রি কিকে স্বপ্নের সূচনা করেছিলেন, সেই তিনিই ফাইনালের শেষ মুহূর্তে জাদুকরী এক শটে এনে দিলেন চূড়ান্ত সাফল্য। পেনাল্টি শ্যুটআউটে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।
ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে শেষ পেনাল্টিতে। রোনান সুলিভান নেন এক দারুণ পানেনকা শট, যা নিখুঁতভাবে জালে জড়াতেই মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আনন্দের বিস্ফোরণ ঘটে।
জেনজিদের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘অরা ফার্মিং’—নিজের আত্মবিশ্বাস, ভঙ্গি আর মুহূর্তকে এমনভাবে ব্যবহার করা, যেন সবকিছুই সহজ রোনানের সেই শট যেন তারই বাস্তব উদাহরণ।
ম্যাচের আগে পরিসংখ্যান ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের বিপক্ষে। এর আগে ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৫ সালের তিনটি ফাইনালেই ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল লাল-সবুজদের।
তাই মানসিক চাপও ছিল প্রবল। গ্রুপপর্বে ভারতকে হারালেও ফাইনালে সেই একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ায় কিছুটা দ্বিধা কাজ করছিল দলটির খেলায়।
বাংলাদেশ বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে শেষ দিকে ডেকলান সুলিভান-এর বাড়ানো বল রোনানের কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছিল, কিন্তু ভারতীয় গোলরক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন।
ভারতও পাল্টা আক্রমণে চেষ্টা করলেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
পেনাল্টি শ্যুটআউটে শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। টসে জিতে ভারত প্রথম শট নেয়, কিন্তু বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন তা ঠেকিয়ে দেন।
এরপর মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখেন। তবে চতুর্থ শটে স্যামুয়েলের বল ক্রসবারে লেগে ফেরে, ফলে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩।
একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল আবারও ভাগ্য ফিরতে পারে ভারতের দিকে। কিন্তু পঞ্চম শটে ভারতের শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে গেলে সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে।
শেষ শটে রোনান সুলিভান দেখালেন ঠাণ্ডা মাথার এক অসাধারণ কারিগরি পানেনকা শটে নিশ্চিত করলেন জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো যুব সাফ ফাইনালে ভারতকে হারালো। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের পর আবারও দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজের যুবারা।









