শেষ ওভারের শুরুটা হতাশায় ডুবলেও শেষটা দারুণ প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয়েছে লাহোর কালান্দার্স। বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান শেষ ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে নিজের বোলিং ফিগার কিছুটা সম্মানজনক করলেও দলকে বড় হার থেকে রক্ষা করতে পারেননি।
১১ এপ্রিল(শনিবার) করাচিতে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির কাছে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে লাহোর, ফলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে পেশোয়ার।
ম্যাচের শুরুতে বল হাতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত ছিলেন মুস্তাফিজ। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে মাত্র চারটি সিঙ্গেল দেন তিনি। পরের ওভারেও বাউন্ডারি না দিয়ে খরচ করেন কেবল পাঁচ রান। তার লাইন-লেন্থে স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাচ্ছিল না পেশোয়ারের ব্যাটসম্যানরা।
দ্বিতীয় স্পেলেও শুরুটা ভালোই ছিল। তবে পঞ্চদশ ওভারে কুসাল মেন্ডিসের স্কুপে একটি ছক্কা হজম করেন তিনি। এরপরও ওভারটি নিয়ন্ত্রণেই রাখেন। কিন্তু আসল নাটকটা জমে শেষ ওভারে। প্রথম বলেই মাইকেল ব্রেসওয়েলের ছক্কা হজম করেন মুস্তাফিজ। পরের দুই বলে সিঙ্গেল এলেও চতুর্থ বলে লো ফুলটসে ব্রেসওয়েলকে ফেরান তিনি। পঞ্চম বলে স্লোয়ার বাউন্সারে আমের জামালকে পরাস্ত করে শেষ বলে ক্যাচে পরিণত করেন। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার।
লাহোরের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। একটি করে উইকেট পান উবাইদ শাহ ও উসামা মির।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে পেশোয়ার জালমি। ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন কুসাল মেন্ডিস ও বাবর আজম। মেন্ডিস খেলেন দৃষ্টিনন্দন ইনিংস, আর বাবর যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪৩ রান। শেষ দিকে ব্রেসওয়েল ও মোহাম্মদ হারিস ছোট ছোট ইনিংসে রান তোলার গতি বাড়ান।
১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে লাহোর। বাংলাদেশের দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা নতুন বলে আঘাত হানেন। প্রথম ওভারেই উইকেট নেন শরিফুল, আর পরের ওভারে নাহিদ ফেরান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লাহোর। মিচেল ব্রেসওয়েল ও সুফিয়ান মুকিমের স্পিনে এলোমেলো হয়ে যায় তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯৭ রানেই গুটিয়ে যায় লাহোর কালান্দার্সের ইনিংস।
বল হাতে পেশোয়ারের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন ব্রেসওয়েল ও সুফিয়ান মুকিম-দুজনেই নেন ৩টি করে উইকেট। নাহিদ রানা নেন ২টি উইকেট, আর শরিফুল ইসলাম ও আমির জামাল নেন একটি করে।
এর আগে আগের ম্যাচেও দারুণ বোলিং করেছিলেন নাহিদ রানা। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এই ম্যাচেও ৩ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি।
অন্যদিকে চলতি আসরে ৫ ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমানের উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৬। তবে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দলকে জয়ের মুখ দেখাতে পারেনি এবার।









