করোনার প্রভাব যেন খুব ভালোভাবেই পরছে বার্সেলোনার উপর। করোনা পরিস্থিতিতে এক মাস ধরে বন্ধ আছে খেলা, এর মধ্যেই এই ক্লাবের আর্থিক দেনা চোখে পড়ার মতো। ইতিমধ্যে এক সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন বোর্ডের ছয় পরিচালক। ক্লাব সভাপতির দৌড়ে থাকা ভিক্টর ফন্ত বলছেন, আর্থিক ও মানসিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে বার্সেলোনা।
গতকাল ক্লাবের সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠি লিখেছেন ফন্ত। চিঠিতে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই সি আল ফুতুর (ফন্তের সংস্থা) বার্সেলোনার সদস্যদের সতর্ক করছিল। বলছিল ভয়ংকর এক ঝড় অপেক্ষা করছে বার্সেলোনার জন্য। ইতিহাসের সেরা ফুটবল জেনারেশনের বিদায়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, বার্সেলোনার উন্নয়ন প্রকল্প নতুন করে গড়তে হবে এবং মালিকের অর্থে বলীয়ান এমন সব ক্লাবের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এবং সবই করতে হবে ক্লাবের মালিকানা সদস্যদের হাতে রেখে। মাঠের খেলা ও অন্যান্য বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতায় এক বিন্দু ছাড় না দিয়েই এটা করতে হবে। ঝুঁকির আকার আগে যদি বড় ছিল, এখন সেটা দানবাকৃতির রূপ নিয়েছে। আমরা এমন এক মহামারির মধ্যে আছি যা বিশ্বকে থামিয়ে দিয়েছে। এটা জীবনের সবকিছুতেই প্রভাব ফেলবে। খেলাতেও, যদিও আমরা আন্দাজ করতে পারছি না কতটা।
ভিক্টর ফন্ত লিখেন, এ অবস্থাতে আমরা ক্লাবের আচরণে বেশ কিছু লজ্জাদায়ক অধ্যায় দেখতে পাচ্ছি। নতুন কোনো ঘটনা এসে পুরোনো লজ্জাকে আড়াল করে দিচ্ছে। এসব ঘটনার ফল ও একে অপরের ওপর দোষারোপেই আমরা ছয়জনকে এভাবে পদত্যাগ করতে দেখলাম। এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত, ক্লাবকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করা। অথচ এই সময়ে সভাপতি পরিচালনা পর্ষদ নতুন করে ঢেলে সাজাতে চাইছেন, শুধু মাত্র নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। যা বার্সেলোনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
তিনি আরও লিখেন, এর পরিণাম হলো আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এবং যে নৈতিকতার ওপর ক্লাব দাঁড়িয়ে আছে তার অবক্ষয় হওয়া। খেলা শেষ।
আনন্দবাজার/ টি এস পি









