“ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনে কাতারের চেহারা বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার লাখ লাখ শ্রমিক”
বিশ্বকাপ উপলক্ষে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাতারের চেহারা বদলে ফেলতে কাজ করেছেন দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের লাখ লাখ শ্রমিক। আফ্রিকার কিছু দেশ থেকেও শ্রমিক নিয়োগ দেয় কাতার কর্তৃপক্ষ। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বা ফিফা বিশ্বকাপ- ২০২২ এর পর্দা ওঠার সময় বাংলাদেশসহ অভিবাসী সেসব শ্রমিকদের দেখা যায় ফ্যানজোনগুলোতে । যেখানে তাদের উল্লাস করতে দেখা যায়। তাদের কেউ হয়তো অফিস শেষ করে এসেছেন, কেউ বা ছুটি নিয়েছেন, আবার কারও হয়তো এদিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। সবাই মিলে একজায়গায় বসে খেলা দেখার মজা উপভোগ করেছেন।
ফ্যানজোনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের ভাষ্য, মহাযজ্ঞের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকতে পেরে তারা যেমন রোমাঞ্চিত, তেমনি উচ্ছসিতও। এতদিনের এত হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর এ আয়োজন দেখে রীতিমতো শিহরিত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হিসেবে নিজেদের মিলিয়ে নেয়ার উল্লাস প্রকাশ করেছেন।
আল জাজিজার এক প্রতিবেদনে এসব শ্রমিকদের প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। সেখানে এক শ্রমিক বলছেন, বিশ্বকাপের কাজ করতেই দেশ ছেড়ে কাতারে এসেছিলাম। সেই কাজ শেষে এখন একটি নতুন কোম্পানিতে জেনারটর অপারেটর হিসেবে কাজ করছি। সবাই মিলে একসঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও খেলা উপভোগ করেছি। প্রতিটি মুহূর্তে রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেছে।
পিটার নামে ভারতীয় অপটিক্যাল ফাইবার শ্রমিক বলেন, ১৫ বছর ধরে কাতারে বসবার করছি। বিশ্বকাপের আগে কাতারে কোনো মেট্রো ও বাস সার্ভিস ছিল না। এমনকি, এখন যেসব বড় বড় ভবন ও চকচকে মহাসড়ক দেখা যাচ্ছে, তার কোনো কিছুই হয়তো হতো না। বিশাল এ কর্মজজ্ঞের অংশ হতে পেরে খুবই গর্বিত অনুভব করছি।
অবশ্য বিপরীত চিত্রও ছিল। টিকিটের মূল্য ও না পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক শ্রমিক। কাতারের নাগরিকরা ৪০ কাতারি রিয়াল বা দুই হাজার ২৭৭ টাকার বিনিময়ে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারছেন। বাকিদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ৮০০ ডলার বা ৮৩ হাজার টাকা। ভারতীয় শ্রমিকের ভাষ্য, টানা কয়েকদিন চেষ্টা করেও ৪০ রিয়ালের টিকিট পাইনি। প্রথম দিকেই কম দামের টিকিটগুলো পাওয়া যায়নি এখন তো আর পাবোই না।
ওই শ্রমিকের সহকর্মী জানান, ৬০০ কাতারি রিয়াল খরচ করে নেদারল্যান্ডস-ইকুয়েডর ম্যাচের একটি টিকিট পেয়েছি। অথচ মাসে আমার বেতন মাত্র এক হাজার কাতারি রিয়াল। এ বেতন দিয়ে আমাকে নিজের খরচ ও ভারতে পরিবারের খরচ পাঠাতে হয়।
তবে সবমিলিয়ে গত রবিবার জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাআয়োজনের। সে অনুষ্ঠান ও আসরের প্রথম ম্যাচ উপভোগে অংশ নেন অসম্ভবকে সম্ভব করে এ মহাযজ্ঞ সফল করার পেছনের কারিগররা অর্থাৎ স্টেডিয়াম ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করা শ্রমিকরা।









