বাংলাদেশের সামনে সমীকরণটা ছিল বেশ সহজ ভিয়েতনামের বিপক্ষে অন্তত একটি ড্র করলেই কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন বেঁচে থাকত।
কিন্তু থাইল্যান্ডের মাটিতে সেই লক্ষ্য আর অর্জন করা হলো না। আক্রমণভাগের ব্যর্থতা এবং রক্ষণভাগের এক মুহূর্তের ভুলে ১-০ গোলের হতাশাজনক পরাজয় নিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
পুরো টুর্নামেন্টে গোলপোস্টের নিচে নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তার একটি ভুলই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় দলের জন্য।
প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে না পারলেও ম্যাচের ৫০ মিনিটে ভিয়েতনাম পায় একটি ফ্রি-কিক। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সেই বল ধরতে গিয়ে পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসেন মিলি, কিন্তু বলটি ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তার হাত ফসকে যাওয়া বল সহজেই হেড করে ফাঁকা জালে জড়িয়ে দেন ভিয়েতনামের এক ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পর বাংলাদেশের সামনে ছিল প্রায় ৪০ মিনিট সময়। কিন্তু আক্রমণভাগ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার সেরা সুযোগ হাতছাড়া করেন আগের ম্যাচের নায়িকা সাগরিকা। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বল জালে জড়াতে পারেননি। ওই সুযোগ ছাড়া পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণে তেমন ধার দেখা যায়নি।
প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ নারী আসরে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্ট ছিল বড় অভিজ্ঞতার মঞ্চ। অভিষেকটা স্বপ্নময় হতে পারত। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি ও রক্ষণভাগের ভুলে হারতে হয়েছিল। পরের ম্যাচে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষেও প্রথমার্ধ গোলশূন্য রেখে দারুণ লড়াই করেছিল দলটি।
এমন পারফরম্যান্সের পর ভিয়েতনামের বিপক্ষে অন্তত একটি পয়েন্টের আশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষকের এক ভুল এবং ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে।









