বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের সাহেবের মেঠ এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন (৫০) তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মারধর, অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে দেলোয়ার হোসেন ৩৫ বছর বয়সী শাহনাজ বেগমকে বিয়ে করেন। দেলোয়ার দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার এই শারীরিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্ত্রী তাকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবনে বাধ্য করতেন এবং নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনায় দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে তিনি মোংলা মাছ বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী ফোন করে তাকে মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছালে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে এবং জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে মোংলা বাজার এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে অভিযুক্তরা তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তার কাছ থেকে মাছ বিক্রির নগদ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা, স্বর্ণ ও রুপার আংটি, একটি স্মার্টফোন এবং একটি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা নেন। সুস্থ হওয়ার পর দেলোয়ার হোসেন মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তার অভিযোগে স্ত্রী শাহনাজ বেগম, শ্বশুর আব্দুল গণি, মো. রনি এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









