চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপত্রে উল্লেখ ছিল ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রকিউরমেন্ট অফিসার’ পদে ৪০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি। রিপোর্টিং কর্মকর্তা হিসেবে নাম ছিল আইনুল ইসলামের।
প্রাথমিকভাবে চাকরি পাওয়ার আনন্দে বিভোর হলেও পরে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন পুরো বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ। অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি জাল নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র এবং এমনকি নামিদামি রেস্তোরাঁয় ভুয়া ‘ট্রেনিং সেশন’ আয়োজন করে বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করেছিল।
ভুক্তভোগী রিমন বিন হুমায়ুন বলেছেন, আমরা কঠোর শাস্তি চাই। যেন আর কেউ এমন প্রতারণার শিকার না হয়। আমাদের টাকা ফেরতসহ দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
চট্টগ্রামে এই প্রতারণা চক্রে আরেফিন রহমান শাওন, মো. সাফায়েতুল ইসলাম ও জিদান আলম সোয়াদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন সহযোগীর নামও উঠে এসেছে, যারা নিজেদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রভাবশালী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করত বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে বিপুল টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে কেউ ১ লাখ ৫০ হাজার, কেউ ১ লাখ ৯৫ হাজার, আবার কেউ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদান করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ‘ভুয়া প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলে বন্দরে গিয়ে জানা যায় সেগুলো সম্পূর্ণ জাল।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তারা। পরে একটি চেক দেওয়া হলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়।
অভিযুক্ত আরেফিন দাবি করেন, “সব অভিযোগ সঠিক নয়, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।”
এ ঘটনায় থানায় জিডি, র্যাব-৭ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।









