পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দিনে আনন্দঘন মুহূর্তেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম সেতু হঠাৎ ভেঙে পড়লে শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান। এ ঘটনায় চার শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও দুই শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের দিন হওয়ায় বিকেলে নদীর পাড় ও ভাসমান সেতু এলাকায় ঘুরতে আসা মানুষের ব্যাপক ভিড় ছিল। হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে সেতুটি ভেঙে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে থাকা অনেক মানুষ নদীতে পড়ে যান।
দুর্ঘটনায় নিহত চার শিশুর মধ্যে রয়েছে কালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬) এবং তার মেয়ে খাদিজা (১২)। এছাড়া ডাকাতিয়া পাড়া এলাকার জয়নালের মেয়ে মায়ামনি (১০) ও বেলতলি রেলগেট এলাকার হাবীবুল্লাহর ছেলে আবীর হোসেন (১৪) এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরই ওই ভাসমান সেতু এবং আশপাশের নদীর পাড়ে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে হঠাৎ করেই সেতুটি ভেঙে পড়ে এবং সেতুর ওপর থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে কয়েকজন শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়।
ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন শিশুর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান জানান, উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলমান রয়েছে এবং নিখোঁজ দুই শিশুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এই দুর্ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর বিষয়টি আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন।









