বগুড়ার ঠনঠনিয়া এলাকায় এক ব্যতিক্রমী ভালোবাসার গল্প ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। নাতনির প্রতি গভীর স্নেহ ও আবেগের অনন্য প্রকাশ ঘটিয়ে তার ওজনের সমপরিমাণ কয়েন উপহার দিয়ে আলোচনায় এসেছেন আব্দুল কাদের প্রামাণিক। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় যেমন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে দেখা যায় এক অনন্য দৃশ্য। একটি দাঁড়িপাল্লার এক পাশে বসানো হয় নাতনি নাইমা খাতুনকে, আর অন্য পাশে রাখা হয় দীর্ঘদিন ধরে জমিয়ে রাখা অসংখ্য কয়েন যার বেশিরভাগই ৫ টাকার। ধীরে ধীরে ওজন সমান হলে সেই কয়েনগুলো তুলে দেওয়া হয় নাতনির হাতে। মুহূর্তটি উপস্থিত সবার জন্যই হয়ে ওঠে আবেগঘন ও স্মরণীয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড় মেয়ের ঘরে প্রথম নাতনির জন্মের পর থেকেই এমন কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন আব্দুল কাদের ও তার স্ত্রী। তারা চেয়েছিলেন, নাতনির ওজনের সমান কয়েন উপহার দেবেন। কিন্তু সে সময় আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
তবে স্বপ্ন থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাটির ব্যাংকে জমতে থাকে কয়েন। একসময় সেই সঞ্চয় বড় আকার নেয়। অবশেষে নাতনির বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর বহুদিনের সেই ইচ্ছা বাস্তবে রূপ নিল।
আব্দুল কাদের জানান, একটি পত্রিকায় প্রকাশিত অনুরূপ একটি ঘটনা থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এরপর থেকেই শুরু করেন পরিকল্পনা ও সঞ্চয়। তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তে তার জীবনের বড় একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে তার স্ত্রী এই স্বপ্নপূরণ দেখে যেতে পারেননি।
নাতনি নাইমা খাতুন বলছিলেন, নানি বেঁচে থাকলে আনন্দটা আরও অনেক বেশি হতো। তবে নানা-নানির স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমি ভীষণ খুশি। তার কথায় ফুটে ওঠে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও আবেগের মিশেল।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে ঘিরে বাড়িতে ছিল একেবারে বিয়েবাড়ির আমেজ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় ছোট্ট এক উৎসবে। হাসি-আনন্দ আর ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেছেন, এমন ঘটনা আগে শুধু শুনেছি, কিন্তু নিজের চোখে কখনও দেখিনি। নানা-নাতনির এই ভালোবাসা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
স্থানীয়দের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি উপহার নয় এটি পারিবারিক ভালোবাসা, আবেগ ও প্রতিশ্রুতির এক অনন্য প্রতীক। যেখানে অর্থের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে সম্পর্কের গভীরতা এবং অনুভূতির শক্তি।









