গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণের অভিযোগে আলোচিত ঘটনার তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) শ্রীপুর থানার এসআই সঞ্জয় সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ওই তরুণী ও সংশ্লিষ্ট এক তরুণকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের শিগগিরই আদালতে পাঠানো হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীপুরে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১৫) জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেন তার বাবা। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন যুবক বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে মেয়েটিকে নিয়ে যায়। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি অপহরণ নয়, বরং প্রেমের সম্পর্কের জেরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার ঘটনা।
মেয়েটির বাবা হাদিউল ইসলাম দাবি করে বলেছেন, অভিযুক্তরা তাদের বাড়ির গেট ভেঙে ঢুকে পড়েন এবং এক পর্যায়ে তার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মেয়েকে জোর করে নিয়ে যান। তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের চিৎকার সত্ত্বেও তাকে রক্ষা করতে পারেননি।
অন্যদিকে, শ্রীপুর থানার ওসি নাছির আহমেদ বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগেই ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে পালিয়ে যায় এবং পরে ২ পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয় এই বিষয় নিয়ে। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে, যা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তীতে ছেলের পক্ষের লোকজন এসে মেয়েটিকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ছেলের পরিবারের সদস্যসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকও হয়েছিল। তবে বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ছেলের পরিবার।
ঘটনাটি অপহরণ নাকি পারিবারিক বিরোধ-তা নিয়ে এখনও বিভ্রান্তি থাকলেও পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।









