কেনিয়ার টারকানা হ্রদের তীরে কুমিরের হামলায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম কেনিয়ার এই হ্রদ এলাকায় কুমিরের হামলা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে অন্তত ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস)।
হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় কুমিরের আবাসস্থল মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে এসেছে, ফলে মানুষ–কুমির সংঘর্ষ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাছ ধরা ও দৈনন্দিন কাজে হ্রদে নামতে গিয়ে তারা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। অনেক ঘটনায় কুমিরের আক্রমণে মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন।
এক ভুক্তভোগী জানান, আক্রমণের পর তাকে বাঁচাতে হলেও দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে। আরেকজন হামলার সময় কুমিরের চোখে আঙুল ঢুকিয়ে প্রাণে বাঁচলেও পরে পা হারান।
কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস জানিয়েছে, হ্রদের পানি বৃদ্ধি এবং নতুন এলাকায় কুমিরের বিস্তার এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সংস্থাটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে কুমির স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিবৃষ্টির কারণে গত এক দশকে টারকানা হ্রদের আয়তন প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, ফলে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত না করা গেলে এ ধরনের হামলা আরও বাড়তে পারে।









