মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের স্থায়ী সমাধানে ‘চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার’ অংশ হিসেবে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলসহ তেহরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির।
গতকাল বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন। এই সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত সরাসরি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, রবিবার ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ থেকে ফেরার পর পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদে চলমান আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে বাকাই স্পষ্ট করে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তেহরানের জন্য ‘অবিসংবাদিত’।
তবে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও ধরণ নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার কোনো চাপ বা যুদ্ধের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবিকে ‘অযৌক্তিক ও অবাস্তব’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প এক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছেন, ‘ফিল্ড মার্শাল (আসিম মুনির) দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ। আর এ কারণেই আমরা পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে যেতে আগ্রহী।’
গতকাল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো যোগ করেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি ‘প্রায় শেষ হয়ে এসেছে’।
এর আগে গত শনি ও রোববার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ১৯৭৯ সালের পর দেশ দুটির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা।
যদিও সেই বৈঠক থেকে কোনো বড় ধরনের সমঝোতা আসেনি, তবে দুই পক্ষই কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন, সংঘাত নিরসনে তার সরকার ‘পূর্ণ প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তান ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে।
বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের প্রস্তুতি নেওয়ায় তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এমন পদক্ষেপ হবে যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই তেহরান সফর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র : ডন।









