পারস্য উপসাগরে প্রায় ২৫ কোটি ডলার মূল্যের একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত এটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত ৯ এপ্রিল ড্রোনটি রাডার সংযোগ হারানোর পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটি ভূপাতিত করেছে।
মার্কিন নৌবাহিনী ঘটনাটিকে একটি বড় ধরনের বিপত্তি বলে স্বীকার করলেও ড্রোনটি কীভাবে ধ্বংস হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা ড্রোনটি আচমকা ১০ হাজার ফুটের নিচে নেমে যায়। এ সময় প্রথমে ট্রান্সপন্ডার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং পরে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।
ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় নজরদারি কার্যক্রম শেষ করে ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। তবে মাঝপথেই এটি গুরুতর সমস্যায় পড়ে। অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল সম্পদ। এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এফ-১৫ই স্ট্রাইক ফাইটার বা এমকিউ-৯ ড্রোনের তুলনায় আরও উন্নত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এমন প্রায় ২০টি ড্রোন সক্রিয় রয়েছে। প্রতিকূল সামুদ্রিক পরিবেশে দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানোর জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি। এতে ৩৬০ ডিগ্রি কভারেজের রাডার এবং আধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর রয়েছে, যা বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
ইরানি সূত্রের দাবি, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমা অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামিয়েছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। সে সময় তেহরান জানিয়েছিল, মার্কিন গোয়েন্দা বিমানটি পরিচয় গোপন করে এবং শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে একাধিক মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ও ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।









