শনিবার ইরানের ওপর ইসরায়েলের অতর্কিত ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা প্রতিরোধমূলক হামলার পর এবার সরাসরি অভিযানে যুক্ত হয়েছে মার্কিন বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়ে ইরানে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সমাধানের যে ক্ষীণ আশা ছিল, তা প্রায় নিভে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আমেরিকার সামরিক বাহিনী একযোগে আক্রমণ শুরু করেছে। আকাশ ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে এই বিশাল সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে, তবে এর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো পরিষ্কার নয়। অন্যদিকে, ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, ইরান এই হামলার পাল্টা হিসেবে ‘চূর্ণ-বিচূর্ণ’ করে দেওয়ার মতো ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
যুদ্ধের এই চরম উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তারা আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত তেল আবিব এবং বাহরাইনে তাদের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া আম্মানের আজকের নির্ধারিত ফ্লাইটটিও বাতিল করা হয়েছে। এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার এবং বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থার জন্য তারা গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করছে।
সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাঁড়াশি আক্রমণ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।









