মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত দ্বিতীয় মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে স্থল বাহিনী মোতায়েন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনার মধ্যেই এবার তেহরানের সহায়তায় এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে চেচনিয়াভিত্তিক রুশপন্থী সামরিক ইউনিটগুলো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘পেস টিভি' সুত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের আংশিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ অভিযানের কথা বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। ওয়াশিংটন এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে জোরদার করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ছাড়াও গত সপ্তাহান্তে প্রায় আড়াই হাজার (২,৫০০) মেরিন সেনা এবং স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে।
এদিকে মার্কিন স্থল অভিযানের আশঙ্কার মুখে ইরানের সামরিক মুখপাত্র চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশটিতে আক্রমণ করতে আসা “যেকোনো আগ্রাসীর পা কেটে ফেলবে” তেহরান। কেবলমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না ইরান, বরং ইরাক ও আফগানিস্তানের মিত্র মিলিশিয়াদের পাশাপাশি এখন চেচেনদের মতো বিদেশি যোদ্ধাদের যুক্ত করে একটি বৃহত্তর স্থল যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া, তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে মস্কো তেহরানকে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, চেচেন ইউনিটগুলোর এই অন্তর্ভুক্তি সংঘাতকে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক বা এমনকি বৈশ্বিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রক্সি বাহিনী এবং বিদেশি যোদ্ধাদের এই ভিড় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
কারা এই চেচেন যোদ্ধা?
‘কাদিরোভাইট’ নামে পরিচিত এই যোদ্ধারা চেচেন নেতা রমজান কাদিরোভের সরাসরি কমান্ডের অধীনে কাজ করে এবং তারা রাশিয়ার বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর একটি দুর্ধর্ষ অংশ। পূর্বেও রাশিয়ার কৌশলগত মিত্রদের সমর্থনে এবং পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে তারা তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। মস্কো ও তেহরানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।









