ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যেতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।
সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (দিবাগত) মধ্যরাত থেকে এ যুদ্ধবিরতি শুরু হবে বলে বুধবার জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
পাকিস্তানের এই ঘোষণার পরপরই তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সোমবার রাতে কাবুলের ‘ওমিদ’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। বুধবার নিহতদের স্মরণে কাবুলে এক বিশাল গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত আফগানিস্তানে সব ধরনের হামলা বন্ধ থাকবে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে কোনো ধরনের হামলা হলে পুনরায় দ্বিগুণ শক্তিতে অভিযান শুরু করা হবে।
তবে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা কোনো নিরাময় কেন্দ্র নয় বরং ‘সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল ও সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, ওই কেন্দ্রটি ড্রোন মজুত ও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহের এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে এবং মানবিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। জাতিসংঘ এবং ইইউ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধের সময় বেসামরিক ও চিকিৎসা স্থাপনায় হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
এর মধ্যেও আফগানিস্তান সীমান্তে কোনো হামলা চালালে, কোনো ড্রোন হামলা হলে বা পাকিস্তানের ভেতর কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে ইসলামাবাদ তাৎক্ষণিকভাবে নতুন তীব্রতায় যুদ্ধ শুরু করবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তারার এ হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।









