নেপালে গণঅভ্যুত্থানকারীরা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। নেপালের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় কাঠমণ্ডুর মেয়র বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) দেশজুড়ে সাফল্যের ছাপ ফেলেছে।
দেশের অন্তত ৪৪টি আসনে আরএসপি প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় দলটি সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো করেছে। ভোট গণনা অব্যাহত থাকায় ঝাপা-৫ আসনে বালেন শাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সিপিএন-ইউএমএল চেয়ারম্যান কেপি শর্মা অলিকে ছাড়িয়ে এগিয়ে রয়েছেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসেরব্রেকিং নিউজ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেপালের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। গত বছরের জেন জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়নে ৭৭ জন নিহত হওয়ার পর প্রায় ছয় মাসের মাথায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সেই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরএসপি মূলত জেন জি প্রজন্মের সমর্থনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। গত বছরের তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের ঢেউ থেকেই দলটির জনপ্রিয়তা বাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা, প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা এবং তরুণ ভোটারদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বালেন শাহ দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনা শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফল ঘোষণা করার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে প্রথমে ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে নির্বাচিত আসনের ফল প্রকাশ করা হবে, এরপর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভোট গণনা শুরু হবে।
প্রাথমিক ফলাফলের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, আরএসপি দেশজুড়ে অন্তত ৩৫টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান রবি লামিছানে চিতওয়ান-২ আসনে লিডে আছেন। বালেন শাহ ঝাপা–৫ আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
কাঠমাণ্ডুর ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ১০ আসনে আরএসপি প্রার্থীরা লিডে রয়েছেন। ভক্তপুর–১ ও ভক্তপুর–২ আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। এছাড়া মোরাং, ধানুশা, রৌতাহাট, বারা, ললিতপুর, কাস্কি, রূপান্দেহি, দাং, ব্যাংকে ও কান্চনপুরসহ একাধিক আসনেও আরএসপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬০ শতাংশ। বিশেষ করে জেন জি প্রজন্মের ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
২০২৫ সালে নেপালে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হাজার হাজার তরুণ রাস্তায় নেমে আসেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়। পরে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা।









