ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনে পড়তেই উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা নিয়ে তেহরানও আবার যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনায় সম্মত হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই নিজেদের বিজয় দাবি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রাণহানি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা এই সংঘাত থামানোই ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য।
তবে চুক্তির পরদিনই এতে ফাটল দেখা দেয়। মার্চে হিজবুল্লাহ যুদ্ধে জড়ানোর পর লেবাননে এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈরুতের জনবহুল এলাকাও হামলার শিকার হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বুধবারের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং প্রায় ৯০০ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আওতায় পড়ে না। একই অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনোই লেবাননকে এই যুদ্ধবিরতির অংশ বলেনি। লেবানন ইস্যুতে ইরান যদি এই আলোচনা ভেস্তে দিতে চায়, তবে সেটি তাদের একান্তই নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতির ভিত্তি ইতোমধ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, পরবর্তী আলোচনা এখন ‘অযৌক্তিক’। তিনি তিনটি বিষয় তুলে ধরেন—লেবাননে অব্যাহত হামলা, ইরানের আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার অস্বীকার।
যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় হোয়াইট হাউস রাজি হয়নি। একই সময়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। হিজবুল্লাহও প্রতিশোধ নেওয়ার ‘অধিকার’ থাকার কথা জানিয়েছে।









