ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বেনজামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছেন ইসরায়েলের নাগরিকরা।
গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দেন এবং সরকারের সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘ডোন্ট বম্ব—টক! এন্ড দ্য এন্ডলেস ওয়ার্স!’ লেখা ব্যানার বহন করেন। বড় ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করেই কর্মসূচি পালন করা হয়। অনেকের অভিযোগ, পুলিশ দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল সংগঠন স্ট্যান্ডিং টুগেদারের সহপরিচালক অ্যালন লি গ্রিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, পুলিশ তাদের বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, তারা ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধের দাবি জানাতে রাস্তায় নেমেছেন।
এএফপি জানায়, বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
দেশটিতে নেতানিয়াহু সরকারের ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিক্ষোভকারী মনে করছেন, নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতেই এই যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন তিনি।
৬২ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, যুদ্ধের কারণ নিয়ে তিনি সন্দিহান। তার ভাষ্য, আমার মনে হয়, “বিবি” (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) তার বিচার ঠেকাতে চাইছেন।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি মামলায় বিচারাধীন রয়েছেন নেতানিয়াহু। এ মামলায় তিনি রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আইজ্যাক হারজগের ওপর চাপ প্রয়োগের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভের মধ্যেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন নেতানিয়াহু। শনিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তেহরানের ‘সন্ত্রাসী শাসন’ লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র ও ইস্পাত উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যুদ্ধের কারণ বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এর লক্ষ্য বা সময়সীমা স্পষ্ট নয়।
এদিকে শনিবার মধ্যরাতের পর থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল তেল আবিবসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। ইসরায়েলি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সন্ধ্যায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা জারি হলে বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর ইয়েমেন থেকেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের তথ্য শনাক্ত করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরানও প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।









