ইরানের অভ্যন্তরে প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ এক বৈমানিককে উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। বিমানের অপর ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
ইরানি সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি), যারা নিখোঁজ পাইলটের খোঁজেও অভিযান চালাচ্ছে।
উদ্ধার তৎপরতার সময় একটি মার্কিন ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে স্থলভাগ থেকে গুলি ছোড়া হয়, তবে সেটি নিরাপদে ফিরে আসে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি এ-১০ ওয়ারথগ বিমান বিধ্বস্ত হলেও এর পাইলট অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। এ ঘটনায় নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্যের দাবি করেছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষয়ক্ষতি ও পাইলট নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি দিয়ে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলোও হামলার মুখে পড়ছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় মিনা আল-আহমাদি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর আবুধাবিতে একটি গ্যাস ক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ইরানে ২৪৪ শিশুসহ অন্তত ১,৬০৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩৪৫ জনে। একই সময়ে ১৩ জন মার্কিন সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন।
বর্তমানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তেহরান অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো পুনরায় কার্যকর করে তুলছে।









