সাগরকন্যা কুয়াকাটায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইন জলকেলি উৎসব। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেট মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
১৮ এপ্রিল (শনিবার) তিন দিনব্যাপী এ উৎসব আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
১৬ এপ্রিল উদ্বোধনের পর উৎসবের প্রধান আকর্ষণ জলকেলিতে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন।
আয়োজকদের মতে, পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ এবং সৌহার্দ্য বৃদ্ধিই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণভাবে শনিবার (১৮ এপ্রিল) উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
সভাপতিত্ব করেন রাখাইন মাতুব্বর মং এমং তালুকদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামিম হাওলাদার।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জলকেলি পর্ব। উৎসবস্থলে সাজানো নৌকায় পানি রেখে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নাচ-গান ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আগত তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রাখাইন মহা সাংগ্রাইন ১৩৮৮ বর্ষবরণ ও জলকেলি উদযাপন কমিটির আয়োজনে তরুণ-তরুণীরা রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে পরিবেশন করেন মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক নৃত্য। তাদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে রাখাইন জনগোষ্ঠীর শত বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ।
রাখাইন তরুণী মিয়াশু বলেছেন, সাংগ্রাই শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের জীবনের নতুন সূচনার প্রতীক। সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার।
রাখাইন তরুণ উখিন বলেছেন, এই জলকেলির মাধ্যমে আমরা একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসা ভাগাভাগি করি। এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ।
রাখাইন মংচোমেন জানিয়েছেন, পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামিম হাওলাদার বলেছেন , উৎসবকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে রাখাইন সংস্কৃতিকে আরও পরিচিত করে তোলে।
তিন দিনব্যাপী এ উৎসব ১৮ এপ্রিল (শনিবার) আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।









