হাম বা রুবিওলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত প্যারামক্সিভাইরাস গোত্রের মর্বিলিভাইরাসের কারণে সৃষ্টি হয়। এই রোগ সাধারণত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়।
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-কাশির মতো দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে, সঙ্গে থাকে জ্বর (১০৩–১০৫°), কাশি, গলা ব্যথা এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। সাধারণত ২–৪ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। প্রথমে এটি মুখে প্রকাশ পায়, পরে গলা, ঘাড় এবং পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ফুসকুড়ি ৫–৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
হাম যদি শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়ায়, যেমন ফুসফুস বা মস্তিষ্ক, তাহলে তা গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, অন্ধত্ব এবং খিঁচুনি অন্যতম। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়, যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
হামের চিকিৎসা ও প্রতিকার:
হামের কোনো নির্দিষ্ট এন্টিভাইরাল ওষুধ নেই।
উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।
শরীরের যথাযথ হাইড্রেশন বজায় রাখা জরুরি।
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।
জ্বর হলে প্রয়োজনমতো ওষুধ দিতে হবে।
আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা প্রয়োজন, যাতে অন্যদের সংক্রমণ না ছড়ায়।
ভিটামিন এ সম্পূরক চিকিৎসা জ্বর কমাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
হাম প্রতিরোধ:
হাম থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া। নির্ধারিত দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর হাম প্রতিরোধে কার্যকারিতা প্রায় ৯৭%।
সময়মতো টিকা দেওয়া এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপসর্গ ও সংক্রমণ:
আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নেয়, কাশি দেয় বা হাঁচি দেয়, তখন রুবিওলা ভাইরাস বাতাসের ফোঁটার মাধ্যমে ছড়ায়।
এই সংক্রামক কণাগুলো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত পৃষ্ঠের উপর সক্রিয় থাকে।
সাধারণত ৭–১০ দিনের মধ্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।
হাম হলে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। সতর্ক ও সচেতন থাকা, রোগীকে আইসোলেশনে রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, ভ্যাকসিন সময়মতো দেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করাই রোগ প্রতিরোধের মূল কৌশল।









